- তেরখাদায় মেয়ের মৃত্যুর পেছনে সম্পত্তির বিরোধ? পাঁচ স্বজনের বিরুদ্ধে বাবার অভিযোগ
- পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ
- যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
তেরখাদায় মেয়ের মৃত্যুর পেছনে সম্পত্তির বিরোধ? পাঁচ স্বজনের বিরুদ্ধে বাবার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদায় ফুফুর বাড়ি থেকে বৃষ্টি খাতুন (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বাবা কালাম মোল্লা। মেয়ের নামে থাকা জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি তাঁর। এ ঘটনায় নিজের দুই বোনসহ পাঁচ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনে তেরখাদা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে বৃষ্টির মৃত্যুর সঙ্গে সম্পত্তির বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৫ অক্টোবর গভীর রাতে তেরখাদা উপজেলার আঞ্চনগাতী গ্রামে ফুফুর বাড়ির একটি ঘর থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। বৃষ্টির বাড়ি উপজেলার পূর্ব কাটেঙ্গা এলাকায়। প্রবাসী আকাশ গাজীর সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন কালাম মোল্লা। অভিযোগে তাঁর দুই বোন তাহলিমা বেগম (৫৫) ও নাজমা বেগম (৪০), ভাগনে নাজিম সরদার (৩৫), ভাগনি আফরোজা বেগম (২৭) এবং মেয়ের জামাই শীন ইসলামের (৩৭) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে কালাম মোল্লা দাবি করেন, তাঁর মেয়ে খুলনার আয়শা সিদ্দিকিয়া মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। প্রায় দুই বছর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় বলে অভিযোগ তাঁর। বৃষ্টির নামে জমি থাকায় তাঁকে নিজেদের কাছে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েও সফল হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন কালাম মোল্লা। তাঁর দাবি, গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টির নামে থাকা সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন। এ সময় মেয়েকে নির্যাতন করা এবং চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
কালাম মোল্লার ভাষ্য, গত ২৫ অক্টোবর রাতে তেরখাদা থানা থেকে ফোন করে তাঁকে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে থানায় গিয়ে তিনি বৃষ্টির মরদেহ দেখেন। তাঁর দাবি, মরদেহ গোসল করানোর সময় মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। এসব বিষয় এবং সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি মেয়ের মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর আশঙ্কা, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃষ্টিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে কালাম মোল্লার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। বৃষ্টির শরীরে ক্ষতচিহ্ন থাকার দাবি এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্ভাব্য যোগসূত্রও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের তথ্য ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের অনুমতি ব্যতীত বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট হুবহু বা আংশিক কপি, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়। এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে অনুগ্রহ করে আগে আমাদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করুন।
বঙ্গ নিউজ কর্তৃপক্ষ

























মন্তব্য: