খুলনা রূপসা ঘাটের প্রাক-ইতিহাস ও অনিয়ম,দূর্নীতিরোধে কিছু পরামর্শ

সম্পাদকীয় কলামঃ
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের একসময়কার একমাত্র সংযুক্ত ঘাট ছিলো রূপসা ঘাট।কুয়াকাটা,পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল,ঝালকাঠি,পিরোজপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ আশ পাশের জেলার সাথে খুলনা,সাতক্ষীরা, যশোর,নড়াইল,ফরিদপুর, মাগুরাসহ আশপাশের জেলায় স্থলপথে যোগাযোগের নদী পথের সংযুক্ত পারাপারের ঘাট ছিলো রূপসা ঘাট। ৭০ দশকের বা স্বাধীনতার পূর্বে রূপসা নদীর রূপরেখা ছিলো ভিন্ন।তখন নদীর গতিপথ বা প্রস্থ ছিলো পশ্চিম রূপসা ট্রাফিক মোড়ের কাছাকাছি (এটলাস সী ফুডস্ পর্যন্ত) আর পূর্ব পাশের গতিপথ বা প্রস্থ বর্তমান নদীটির প্রায় মাঝখান বরাবর।তখন পারাপার হতে ডিঙি নৌকা বা টাবুরে ব্যবহৃত হতো। জনপ্রতি নৌকা/টাবুরে পারাপার হতে ২ আনা ও ঘাটের টোল ১ আনার বিনিময়ে পারাপার হতো। স্বাধীনতার পরবর্তীতে ঘাটে ফেরী সংযুক্ত হয়।তখন সাধারণ পারাপারের যাত্রীসহ ফেরীতে যানবহন পারাপার শুরুহয়। পশ্চিম পাশে চর পড়ায় ঘাটের পারাপার স্থানন্তরিত হয়ে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরী ঘাটে সাধারণ যাত্রীদের পারাপার করা হতো। আশির দশকের শেষার্ধে নদী ভাঙ্গনে পূর্বপাড়ের অনেক ভূমি নদীর গর্ভে বিলীন হয় এবং পশ্চিম পাড়ের চর পড়ে। তখন বর্তমান ঘাটের অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়। তখনকার সময়ে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের সাথে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের সেতু বন্ধন তৈরি হয়। সেই ৮০ দশক থেকে ২০০৫ সালের মে মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সকল জেলার স্থল পথের সকলপ্রকার পরিবহন বাস, ট্রাক, লরি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট,মোটরসাইকেল চলাচল অব্যহত ছিলো।এছাড়া স্থানীয় লোকজন,ভ্যান,রিক্সা,সাইকেল রোগীরা পারাপার হতো এবং ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী আনা-নেয়া করা হতো।৯০ দশক থেকে ২০০৫ সাল অব্দি এই ঘাট হতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পারাপার হতো।বাংলাদেশে নদীরঘাট পারাপারে সর্বোচ্চ যাত্রীর তালিকায় ১ নং এ রূপসা ফেরীঘাট ছিলো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। দিনরাত অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা ঘাট পারাপার হওয়া যেত এই ঘাট হতে। ঢাকা,চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, কুয়াকাটা,বরিশাল,নর্থ বেঙ্গলের জেলাগুলিতে যাওয়ার সকল পরিবহন ও বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক,লরি পারাপার হতে হতো এই ঘাটের ফেরিতে। ২০০৫ সালে খানজাহান আলী সেতু ( রূপসা ব্রীজ) উদ্বোধন হওয়ার পার এই ঘাট থেকে ফেরীগুলি নিয়ে যাওয়া হয়।তখন থেকে পারাপারের একমাত্র ভরসা ট্রলার।ফেরিগুলি নিয়য়ে যাওয়ায় ঘাটের দু’পাশে অনেক অবস্থার পরিবর্তন হয়।রূপসা পূর্বপাশে রূপসা বাগেরহাট বাসমিনিবাস মালিক সমিতির অধিনস্থ অনেক রূটের গাড়ি এপার থেকে সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডে চলে যায়।ঘাটের পাশে উপচে পড়া ছোট,মাঝারী ব্যবসায়ী,হোটেল,হকার আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়।পরবর্তী রূপরেখার চিত্র পাল্টাতে পাল্টাতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে।
যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ পার হয়েছে তখন যদি ঘাটের নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হলে তবে তখনকার তুলনায় ১০% যাত্রী পারাপারে এত অনিয়ম,বিশৃঙ্খলা ও দূর্নীতি হবে কেন? বিষয়টি সাধারণ যাত্রী,স্থানীয় বাসিন্দা,স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, উপজেলা-জেলা প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,সুশীল সমাজের মানুষদেরকে চিন্তায় ফেলেছে।
রূপসা ঘাটের হয়রানি ও নিয়ম শৃঙ্খলা, দূর্নীতি বন্ধ করতে কিছু কৌশল অবলম্বন করা যায় কি না,বিষয়টি পর্যালোচনা বা ভেবে দেখুন :
ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া বন্ধ করতে একটি কৌশল অবলম্বন করা যায়:
১) টোল ১ টাকা না নিয়ে টোলের ১ টাকা +ট্রলার ভাড়া ৪ টাকা = ৫ টাকা, একবারে ৫ টাকা টোল কাউন্টারে জমা নেওয়া উচিত।
২) ট্রলারে পারাপার হতে গেলে ৫/১০/২০ টাকার নোট দিলে ফেরত টাকা নিতে বিলম্ব বা খুচরা না থাকায় ১ টাকার কয়েনের জন্যবৃদ্ধ,মহিলা,স্টুডেন্ট, কর্মজীবী ও ব্যস্ততম ব্যক্তিরা বিরক্ত বোধ করে।তাই একবার ৫ টাকা টোল কাউন্টারে দিলে বারবার টাকা লেনদেন করা লাগবেনা।
৩) যেহেতু ট্রলারে ২৫ জন যাত্রী নেওয়ার কথা সেহেতু ২৫ জন×৪ টাকা=১০০ টাকা হলে ওদের ট্রিপ ফ্লাপ হয়ে যায়।সেহেতু ওদের ট্রিপ প্রতি ১০০ টাকা বরাদ্দ করে দিতে হবে।
৪) ওরা ট্রিপের যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সময় মাঝি সংঘের দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাছ থেকে তারিখ লেখা সম্বলিত টিপ টোকেন নিয়ে নিবে।ওই টোকেন টোল কাউন্টারে দিন শেষে একবারে জমা দিয়ে তার প্রাপ্য টাকা বুঝে নিবে।
৫) ১০০ টাকা টোকেন প্রতি পাবে এরকম সিদ্ধান্ত মজবুত থাকলে কোন ট্রলার মাঝি অতিরিক্ত যাত্রী কোন অবস্থায় তুলতে যাবেনা।
৬) এভাবে সিস্টেম চালু করলে কোন ট্রলার মাঝি ২৫ জনের অধিক ১ জনও যাত্রী নিবে না,কারণ ওরা জানে ১ জন যাত্রী বেশি নিলে ঐ ১ জন যাত্রীর টাকা সে পাবে না।তখন তারাও সচেতন ও নিয়ম মানতে বাধ্য হবে।
৭) উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে অনেক ট্রলার ট্রিপে এগিয়ে যাবে। তবে মাঝি সংঘের সিরিয়াল মেইনটেইন টা দক্ষ হাতে করতে পারলে সফল শতভাগ।
এতে সমতাসূচক আয়,নিয়ম শৃঙ্খলা, ঝুঁকি ও সময় সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে।তখন দীর্ঘদিনের ঘাটের অনিয়ম, দূর্নীতি ও কষ্ট,সময় হবে।
বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের অনুমতি ব্যতীত বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট হুবহু বা আংশিক কপি, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়। এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে অনুগ্রহ করে আগে আমাদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করুন।
বঙ্গ নিউজ কর্তৃপক্ষ

























মন্তব্য: