তেরখাদায় বহিষ্কৃত আ.লীগ নেতা বিএনপির কমিটিতে, পরে অব্যাহতি; এবার স্কুলের সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদায় রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনার মধ্যে থাকা এ বি এম আলমগীর শিকদার এবার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। একসময় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা এই নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিএনপির একটি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটিতেও জায়গা পেয়েছিলেন। তবে সেখানে নাম অন্তর্ভুক্তির পর তৈরি হয় বিতর্ক এবং পরে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের বিদ্যালয় পরিদর্শক মু. এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত পত্রে এ বি এম আলমগীর শিকদারকে তেরখাদা উপজেলার ইন্দুহাটি নেপাল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর শিকদার সাচিয়াদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সাচিয়াদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
পরবর্তী ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনেও পরাজিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ে বলে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেন। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছর থেকেই তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন বলেও তাদের দাবি।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১ এপ্রিল সাচিয়াদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটিতে ৫ নম্বর সদস্য হিসেবে এ বি এম আলমগীর শিকদারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতার নাম বিএনপির কমিটিতে আসার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
পরে অবশ্য তাকে ওই কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়কের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুলবশত তার নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার কারণে তাকে কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সাচিয়াদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খান গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আলমগীর আগে কখনো বিএনপির সঙ্গে ছিলেন না। ৫ আগস্টের পর অনেকের সঙ্গে সেও নতুন বিএনপি হয়েছে।’
তবে বিএনপির সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন এ বি এম আলমগীর শিকদার। তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। একটা সিস্টেম করে নৌকা প্রতীক পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়। তিন-চার বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছি।’
অন্যদিকে তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী বলেন, আলমগীর শিকদার বিএনপির কেউ নন। তাকে বিদ্যালয়ের সভাপতি করার ক্ষেত্রেও দলের কোনো সুপারিশ ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আলমগীর শিকদার বিএনপির কেউ নন। দলের সুপারিশেও তাকে স্কুলের সভাপতি করা হয়নি। তিনি ওই বিদ্যালয়ে আগেও সভাপতি ছিলেন। তাই এবারও সভাপতি হয়েছেন।’
এদিকে গত ২৪ আগস্ট যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মু. এনামুল কবীর স্বাক্ষরিত পত্রে আলমগীর শিকদারকে ইন্দুহাটি নেপাল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও দল থেকে বহিষ্কারের পর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্তি এবং পরে সেখান থেকে অব্যাহতির ঘটনা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের পত্রে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি মনোনীত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনয়নের সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আলমগীর শিকদারকে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশও করা হয়নি।
এ বি এম আলমগীর শিকদারের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে তার মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের অনুমতি ব্যতীত বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট হুবহু বা আংশিক কপি, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়। এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে অনুগ্রহ করে আগে আমাদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করুন।
বঙ্গ নিউজ কর্তৃপক্ষ

























মন্তব্য: