খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ, ফেরত পাঠানো হলো কেসিসি’র মশকনিধন ওষুধ

মো: মোশারেফ আলী সোহেল:
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রেকর্ড নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে; লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ১০৯ জন, এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার প্রায়।
এ বছর বিভাগে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় এক হাজার ১০০ রোগী চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, খুলনা বিভাগে চলতি মাসের সর্বোচ্চ ৩৩৪ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৬৪ রোগী ভর্তি হন।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশকনিধনের জন্য আনা ওষুধ মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি। ফলে সেই ওষুধ ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পাশাপাশি কীটতত্ত্ববিদদের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কেসিসি থেকে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করেছে কেসিসি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে মশার লার্ভা নিধনের জন্য নতুন করে ১৫৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জনকে করে শ্রমিক প্রতিদিন ড্রেন, বদ্ধ জলাশয়সহ প্রয়োজনীয় স্থানে মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছে।
এছাড়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রমিকরা ৩১টি ওয়ার্ডে একযোগে ফগার মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন এবং ওয়াসার ম্যানহোলে লাইট ডিজেল অয়েল বা কালো তেল ছিটাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এই কার্যক্রম আরও জোরদারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধনের জন্য তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টি সাইট এবং দুই হাজার লিটার লার্ভি সাইট কেনা হয়।
সূত্রটি জানায়, গত শনিবার কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে মশার ওষুধের মান পরীক্ষা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ওইদিন একটি পাত্রে মশার লার্ভার ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে বদ্ধ ঘরে ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়। একই সঙ্গে নতুন কেনা ওষুধ পরীক্ষার জন্য দেশের খ্যাতনামা তিনটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। আজ সোমবার দুপুরে সেই পাত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ লার্ভা এখনও মারা যায়নি।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ লার্ভা মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পর ১৫ শতাংশ লার্ভা মরেনি। ওই ওষুধের চালান ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে কিভাবে আরও ভালো ওষুধ কেনা যায় এ জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীটতত্ত্ববিদদেরও সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে।
বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের অনুমতি ব্যতীত বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট হুবহু বা আংশিক কপি, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়। এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে অনুগ্রহ করে আগে আমাদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করুন।
বঙ্গ নিউজ কর্তৃপক্ষ

























মন্তব্য: