খুলনার আলোচিত সেই ‘শেখ বাড়ি ‘ এখন পরিত্যক্ত | বঙ্গ নিউজ
হোম / রাজনীতি / বিস্তারিত

খুলনার আলোচিত সেই ‘শেখ বাড়ি ‘ এখন পরিত্যক্ত

18 August 2024, 7:11:38

বঙ্গ ডেস্ক :

খুলনার আলোচিত সেই ‘শেখ বাড়ি’ এখন পরিত্যক্ত। ৪ ও ৫ আগস্ট কয়েক দফা হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর বাড়ির ইটের অবকাঠামো ছাড়া আর কিছু নেই। বাসিন্দারা বাড়িটি ছাড়েন হামলার আগের দিন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন বাড়িটি দেখতে আসছেন; কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী বা দীর্ঘদিন যারা এই বাড়ি থেকে সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

নগরীর শেরেবাংলা রোডে ‘শেখ বাড়ি’র মালিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এবং তাঁর চার ভাই। হেলাল উদ্দিন ঢাকায় থাকেন, তবে খুলনায় এলে থাকতেন এই বাড়িতে। তাঁর ভাই সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল, শেখ রুবেল ও শেখ বাবু কখনও ঢাকায় কখনও খুলনার বাড়িতে থাকতেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে খুলনা উত্তাল হয়ে উঠলে ২ অথবা ৩ আগস্ট চার ভাই ‘শেখ বাড়ি’ ছেড়ে ঢাকায় চলে যান বলে জানা যায়। তারা দেশত্যাগ করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই বাড়িতে হামলা হয়েছে কয়েক দফা। হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা এসি, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ, আসবাব, লাইট, বাড়ির গ্রিল এমনকি গেটও খুলে নিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে ‘শেখ বাড়ি’তে গিয়ে দেখা যায়, ইটের অবকাঠামো ছাড়া দোতলা বাড়িতে কিছুই নেই। আগুন দেওয়ার কারণে দেয়ালের রং কালো হয়ে গেছে। বাড়িতে একজন কর্মচারীও নেই।

‘শেখ বাড়ি’ দেখতে আসা দাকোপ উপজেলার গুনারী গ্রামের স্কুলশিক্ষক আসাদ মোড়ল বলেন, ‘এই বাড়ি অনেক আলোচিত। শুনেছি, সাধারণ মানুষ সহজে ঢুকতে পারত না। এখান থেকে নাকি খুলনার রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিয়োগ-বদলি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হতো। বড়বাজারে একটা কাজে এসেছিলাম, ভাবলাম শেখ বাড়ির কী অবস্থা তা দেখে আসি।’

বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইজিবাইক চালক সিরাজুল আলম বলেন, ‘জুয়েল সাহেব ও সোহেল সাহেব বাড়িতে থাকলে বিভিন্ন লোকজন আসত। বাড়িটি মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম থাকত। বাড়ির সামনে দামি গাড়ির সারি দেখা যেত। এখন বাড়ির মালিকরা নেই, কোনো লোকও আসে না।’

আশপাশের দোকানিরা জানান, ৪ আগস্ট প্রথম দফায় হামলার পর কিছু পুলিশ ও ফারাজীপাড়া রোডের যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী লোকজন নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরের দিন আবারও হামলা হলে কেউ এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং দীর্ঘদিন যারা এই বাড়ি থেকে সুবিধা নিয়েছেন, তারাও আসেননি। বাড়িটি এখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত।

প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির কোনো নাম নেই, তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরিচিতি পায় ‘শেখ বাড়ি’ হিসেবে। স্থানীয় লোকজন বলেন, গত ১৬ বছর, বিশেষ করে ছয় বছর ধরে বাড়িটি খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ, চাকরিতে নিয়োগ ও বদলি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রীড়াঙ্গনসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হতো এই বাড়ি থেকে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন এমনকি পেশাজীবী সংগঠনগুলো চলত এই বাড়ির নির্দেশনায়। দলের কমিটি গঠন করে দিতেন তারা। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা খুলনায় বদলি হয়ে এসে হাজিরা দিতেন শেখ বাড়িতে।

এই বাড়ি ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। তারাই আওয়ামী লীগে বড় বড় পদ-পদবি পান। তাদের কাছে দলের ত্যাগী নেতারা ছিলেন কোণঠাসা। এ নিয়ে ছিল চাপা অসন্তোষ; কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না। গত ১৬ বছরে ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করে ‘শেখ বাড়ি’র সদস্যরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমাদের অনুমতি ব্যতীত বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট হুবহু বা আংশিক কপি, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়। এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে অনুগ্রহ করে আগে আমাদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করুন।

 বঙ্গ নিউজ কর্তৃপক্ষ

মন্তব্য: