ইশতেহারে দেওয়া কথা রাখছেন এমপি হেলাল, জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় সারোয়ার খান কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগোচ্ছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা দিঘলিয়ার ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও দিঘলিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি খুলনা-৪ আসনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আজিজুল বারী হেলাল। সেখানে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ৭৪টি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টিও ছিল।
কলেজসংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানটির জাতীয়করণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে এটিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকায় অবস্থিত আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রায় পাঁচ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত কলেজটি বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের তালিকাতেও প্রতিষ্ঠানটির নাম ও দিঘলিয়া, খুলনা ঠিকানা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধীরে ধীরে শিক্ষা ও অবকাঠামোগত দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তৃত হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে একাধিক একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব, খেলার মাঠ, শহীদ মিনার ও মসজিদসহ বিভিন্ন সুবিধা। কলেজটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমও চালু রয়েছে।
শিক্ষার মান ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের নজির রয়েছে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভিন্ন সময়ে কলেজটি ও এর শিক্ষকরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। ২০২৩ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে কলেজটি শ্রেষ্ঠ কলেজ এবং অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।
এর আগে ২০২৪ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহেও প্রতিষ্ঠানটি ১৭টি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল বলে কলেজ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কলেজটির জাতীয়করণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কলেজটি সরকারিকরণের দাবিকে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিঘলিয়া উপজেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে এ কলেজকে জাতীয়করণ করা হলে এর সুফল বৃহৎ জনগোষ্ঠী পাবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ তৈরি হলে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।
কলেজটির জাতীয়করণের উদ্যোগের বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবির বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং দিঘলিয়া অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সারোয়ার খান কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি হবে দিঘলিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও আইনগত বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে দিঘলিয়ার ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সরকারি কলেজ হিসেবে নতুন পরিসরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে।
বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের অনুমতি ব্যতীত বঙ্গ নিউজ ওয়েবসাইটের কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট হুবহু বা আংশিক কপি, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয়। এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে অনুগ্রহ করে আগে আমাদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করুন।
বঙ্গ নিউজ কর্তৃপক্ষ

























মন্তব্য: