বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বি কোম্পানি’র নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, অভিযুক্ত মুরগি ব্যবসায়ী হাসিব গ্রেপ্তার

3 September, 2026 10:51:27

বঙ্গডেস্ক:

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খান (৩৫)।খুলনা মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর তৈরি ‘বি কোম্পানি’র নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ অন্তত আটজনের কাছ থেকে বিকাশে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে হত্যা ও সন্তানদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যম হালিশহরের নীলাচল আবাসিক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসিব সেখানে মুরগির ব্যবসা করতেন। ডিবির দাবি, মুরগির ব্যবসার আড়ালে তিনি সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করতেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
ডিবি জানায়, হাসিবের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত ছয়টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। চাঁদা পরিশোধে ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরের সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা সিমের নম্বরেরও মিল পাওয়া গেছে।
উপকমিশনার আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হাসিবুর রহমান ফরাজী একসময় খুলনায় থাকতেন। তিনি খুলনার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিকের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে লবণচরা, সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইন, হত্যা, চুরি, মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, একপর্যায়ে আশিকের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে হাসিব খুলনা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যান। আগে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি চাঁদাবাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তবে নিজের পরিচয় আড়াল করতে মুরগির ব্যবসা শুরু করেন।
ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব জানিয়েছেন, সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে মোবাইল ফোনে ‘বি কোম্পানি’র নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন। ভয় দেখিয়ে আদায় করা টাকা নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে নিতেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে ১ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালায় খুলনা মহানগর ডিবি। পরে চট্টগ্রামের মধ্যম হালিশহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাসিব একাই চাঁদাবাজি করতেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইস ও সিম কার্ডের কললিস্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
কেউ ফোন করে চাঁদা দাবি বা হুমকি দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদক : মোঃ বেনজীর হোসেন, বার্তা সম্পদাক :  চন্দন ভট্টাচার্য্য মুজিবরের মোড়-রামনগর, পূর্ব-রূপসা, রূপসা, খুলনা। bangonews@gmail.com/01911567809

Developed by bd it support