বিজ্ঞান বিশ্বে বাংলার মেয়েরা

ড.অতনু মিত্র/কলকাতা :
বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের ইতিহাসে অগণিত পুরুষ বিজ্ঞানীর অবদান এবং সাফল্য আমরা নানা ভাবে পালন করি। কিন্তু, মহিলা বিজ্ঞানীদের উল্লেখযোগ্য অবদান, সাফল্য, মেধা, অগ্রগামী চেতনা অসংখ্য ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পথকে আলোকিত করলেও তাঁরা সারা জীবন অনালোকিত হয়ে থেকে গিয়েছেন। মহিলা বিজ্ঞানীগণ সামাজিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে, লিঙ্গ বৈষম্যকে অতিক্রম করে বিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁদের নাম খোদাই করেছেন। তাঁদের অনেকেই উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণায় পুরুষ শাসিত প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন। তৎকালীন পুরুষ শাসিত প্রতিষ্ঠানগুলি মহিলা বিজ্ঞানীকে নির্দিষ্ট স্তরের উপরে উঠতে প্রতি পদে বাধা দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে তাঁদের উজ্জ্বল অবদানগুলি প্রায়শই তাঁদের সমকক্ষ পুরুষদের উজ্জ্বলতার দ্বারা চাপা পড়ে গিয়েছে। তবুও পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন থেকে জীববিদ্যা এবং গণিত প্রভৃতি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখা জুড়ে বিস্তৃত বাংলার মহিলা বিজ্ঞানীরা তাঁদের আবিষ্কার, উদ্ভাবন এবং যুগান্তকারী গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বে একটি অমোঘ চিহ্ন রেখেছেন।
জন্ম বা কর্মসূত্রে তাঁরা বাঙালি। কেউ জন্মগ্রহণ করেছেন এপার বাংলায়, কেউ জন্মগ্রহণ করেছেন ওপার বাংলায়। কিন্তু নজর কেড়েছেন সারা বিশ্বে। পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, জীবরসায়নে শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী; ডিএসসি ও পিএইচডি প্রাপ্ত প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী; ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমির প্রথম মহিলা সভাপতি; দক্ষিণ মেরু ও উত্তর মেরু অভিযাত্রী প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী; ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট, জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, এসএনবিএনসিবিএস, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ জিওম্যাগনেটিজম, আর্কিওলজি সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-এর প্রথম মহিলা ডিরেক্টর; প্রথম রামানুজন পুরস্কার প্রাপ্ত বাংলার প্রথম মহিলা গণিতজ্ঞ; মঙ্গলগ্রহ অভিযানের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রমুখ ক্ষেত্রে তাঁরা প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এরকম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ৪২ জন মহিলা বিজ্ঞানীর শিক্ষা ও কর্ম জীবনে সাফল্যের কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান বিশ্বে বাংলার মেয়েরা’। এই বিজ্ঞানীদের অনেকেই কোন না কোন ক্ষেত্রে বিশ্বে বা দেশে প্রথম। কেউ দেশে, কেউ বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। বাংলার কর্মরত মহিলা বিজ্ঞানীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে, তথ্য নিয়ে বইটি লিখেছেন মেদিনীপুরের তারাকালী বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক অতনু মিত্র। বইটির ভূমিকা লিখেছেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমির সদ্যপ্রাক্তন সভাপতি ড. চন্দ্রিমা সাহা। কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান বিশ্বে বাংলার মেয়েরা’ বইটি। প্রকাশক তপতী পাবলিকেশন।
সর্বশেষ
Developed by bd it support