পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১নারী কর্মীর স্ট্যান্ড রিলিজ : আদেশ বাতিল করতে টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ঝাপ

তালা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন এবং সাতক্ষীরার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌসকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। নৈতিকতার স্খলন ও পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রীকে তালাক প্রদানসহ একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁদের স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে, এই বদলি আদেশ বাতিল করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমানসহ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক সিন্ডিকেটের সহযোগীতায় কামাল হোসেন টাকার ব্যাগ নিয়ে ১৩ দিন ধরে দৌড়ঝাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে স্ট্যান্ড রিলিজের বদলি আদেশ বাতিল করানোর আশ্বাস দেওয়ায় বিতর্কীত কামাল হোসেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস অদ্যবদী দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি এবং বদলিকৃত স্থলে যোগদান করেননি। এবিষয়ে তালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন’র ভুক্তভোগী স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কঅতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এরআগে ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াসমিন’র আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর পৃথক ২ আদেশে কামাল হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রশাসনিক কারন উল্লেখ করে দেশের দুই প্রান্তে বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে।
নিলুফা ইয়াসমিন জানান, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি গ্রামের মৃত. শের আলী’র ছেলে কামাল হোসেন’র সাথে তাঁর ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর সন্তান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামী কামাল হোসেন বিয়ের পর উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা এবং পরবর্তীতে তালা উপজেলায় যোগদান করে। এই সময়ে সে একই অধিদপ্তরের সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এক নারী কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে তালা উপজেলার এক ইউনিয়ন নারী কর্মীর পর সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনাগুলো জানাজানি হবার পর প্রতিবাদ করলে কামাল হোসেন তাঁর স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনকে ব্যপক ভাবে শারীরিক এবং মানষিক নির্যাতন করে।
ভুক্তভোগী গৃহবধু জানান, একের পর এক পরকীয়া সম্পর্ক করায় স্বামী কামাল হোসেন সন্তান ও সংসারের খোজখবর বাদ দিয়ে সর্বশেষ জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা ও রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়ায় মত্ত হয়ে পড়ে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ তীব্র হলে ২ শিশু সন্তান সহ স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ২ শিশু সন্তানকে নিয়ে প্রায় ১ বছর ধরে কুষ্টিয়ায় পিতার বাড়িতে আছি। আর স্বামী কামাল হোসেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের ওই কর্মীর সাথে এখনও পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারনে বাধ্য হয়ে গত ১৪ অক্টোবর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর প্রমানসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করি। এর প্রেক্ষিতে এদিনই পরিচালক (প্রশাসন) মোসাঃ মাহফুজা খানম স্বাক্ষরিত আদেশে তালা উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় এবং উপ-পরিচালক (পার্সোনেল) এরশাদ আহমেদ নোমানী স্বাক্ষরিত অন্য এক আদেশে সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌসকে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাংগাসিয়া ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে। উভয় আদেশে বলা হয়, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান না করলে তাৎক্ষনিক অবমুক্তি বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু স্ট্যান্ড রিলিজ আদেশের ১৩ দিন পার হলেও তাঁরা বদলিকৃত স্থলে যোগ দেয়নি। এমনকি জেলা অফিসের দায়িত্ব হস্তান্তরের আদেশ অমান্য করে তাঁরা দুজনে সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমানের সহযোগিতায় বদলি আদেশ বাতিল করতে অদ্যবদী দৌড়ঝাপ চালিয়ে যাচ্ছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিন্ডিকেটটি তাদের বদলি আদেশ বাতিল করার চেষ্টা করছে বলে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন।
এছাড়া, অভিযোগ দায়ের করায় নিলুফার ইয়াসমিনকে নানান হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। এদিকে, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও ঘুষ, দূর্নীতির মাধ্যমে বিপুল ধন সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালা উপজেলায় যোগদানের পর তিনি অবৈধ আয়ের টাকা দিয়ে সাতক্ষীরা শহরে বেনামে বিলাসবহুল আবাসিক হোটেলের মালিক হওয়াসহ কলারোয়া উপজেলার নিজ এলাকায় অনেক সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানাগেছে। তাছাড়া অফিসের হিসাব রক্ষক এবং কতিপয় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের সহযোগীতায় অন্য কর্মীদের সাথে রুঢ় আচরন, ঘুষ বানিজ্য, নারী কর্মীদের অপমান-অপদাস্থ করা, তাঁর অনৈতিক কাজে বাঁধা দিলে হুমকি ও লাঞ্চিত করা, নিরিহ কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ নানান অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ সহকারী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এবং সাতক্ষীরা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুস সালাম জানান, কামাল হোসেনের বদলি সংক্রান্ত চিঠি অধিদপ্তর থেকে পেয়েছি। তিনি এখনও যোগদান করেননি। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। যোগদান না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে বরগুনার আমতলি উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইলিয়াস খান রানা বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস আমাদের অফিসে এখনও যোগদান করেননি।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক রওশনা বেগম জানান, অধিদপ্তর থেকে কামাল হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌসকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার চিঠি পেয়েছি। দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে এবং তালা উপজেলায় অন্য এক অফিসারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
Developed by bd it support